দৈনিক রুপায়াণ

গণপূর্তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই পদোন্নতি পেলেন মাহবুবুল হক চৌধুরী

গণপূর্তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই পদোন্নতি পেলেন মাহবুবুল হক চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের কর্মকর্তা মাহবুবুল হক চৌধুরী। টেন্ডার বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও সম্প্রতি তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গণপূর্তের ই/এম সার্কেল-৩-এ দায়িত্ব পালনকালে মাহবুবুল হক চৌধুরী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মকানুন উপেক্ষা করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রকল্পে কাজ না করেই ১৭ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৪৪ টাকার ভুয়া বিল পাস করে সরকারি তহবিল থেকে উত্তোলন করার ক্ষেত্রে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির বেতনের বাইরেও তার নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পশ্চিম আগারগাঁওয়ে চারতলা ভবন এবং বনশ্রী-আমুলিয়া এলাকায় মূল্যবান জমির মালিকানা অন্যতম।

এ ছাড়া, ভুয়া মেজারমেন্ট বুক (এমবি বুক) তৈরি করে অর্থ লোপাটের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ঠিকাদার আলাউদ্দিন ওয়াজেদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা তদন্তে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ১ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের (প্রজ্ঞাপন নম্বর: ৭৪) মাধ্যমে বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে। সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ওপরও তিনি বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিতর্কিত পদোন্নতির বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে তার কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রুপায়াণ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


গণপূর্তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই পদোন্নতি পেলেন মাহবুবুল হক চৌধুরী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের কর্মকর্তা মাহবুবুল হক চৌধুরী। টেন্ডার বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও সম্প্রতি তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গণপূর্তের ই/এম সার্কেল-৩-এ দায়িত্ব পালনকালে মাহবুবুল হক চৌধুরী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মকানুন উপেক্ষা করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রকল্পে কাজ না করেই ১৭ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৪৪ টাকার ভুয়া বিল পাস করে সরকারি তহবিল থেকে উত্তোলন করার ক্ষেত্রে।অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির বেতনের বাইরেও তার নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পশ্চিম আগারগাঁওয়ে চারতলা ভবন এবং বনশ্রী-আমুলিয়া এলাকায় মূল্যবান জমির মালিকানা অন্যতম।এ ছাড়া, ভুয়া মেজারমেন্ট বুক (এমবি বুক) তৈরি করে অর্থ লোপাটের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ঠিকাদার আলাউদ্দিন ওয়াজেদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা তদন্তে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ১ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের (প্রজ্ঞাপন নম্বর: ৭৪) মাধ্যমে বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে। সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ওপরও তিনি বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিতর্কিত পদোন্নতির বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে তার কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

দৈনিক রুপায়াণ

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ মোনায়েম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১২০ ডিআইটি এভিনিউ ,আলম টাওয়ার (৮ম তলা), ঢাকা-১০০০
 ই-মেইল: dainikrupayan@gmail.com
ওয়েবসাইট: www.dainikrupayan.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রুপায়ণ