দৈনিক রুপায়াণ

সিএনজি চালক ফরহাদ হামলার ঘটনার সমাধান, অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়তে প্রশাসন-এলাকাবাসীর ঐক্যের আহ্বান

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী সামাজিক সালিশ, ‘শেষ সুযোগ’ পেল অলি গ্যাংয়ের সদস্যরা

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী সামাজিক সালিশ, ‘শেষ সুযোগ’ পেল অলি গ্যাংয়ের সদস্যরা

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক, ইভটিজিং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সামাজিক সালিশের মাধ্যমে একটি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান,  সাংবাদিক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা পাড়া এলাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের হাতে সিএনজি চালক ফরহাদ হোসেনকে হামলার অভিযোগসহ এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

এ সময় অভিযুক্ত অলি গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা সদস্যদের ভালো হওয়ার জন্য শেষবারের মতো সুযোগ দেওয়া হয়। সামাজিকভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে তাদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক সালিশে উপস্থিত এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, এলাকায় ইভটিজিং, মাদক, মারামারি, বিশৃঙ্খলা কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাদক একটি এলাকার সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। মাদকের বিস্তারের সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধও বাড়তে থাকে। ফলে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে মোহাম্মদপুর এলাকায় আইনবহির্ভূত যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ বা কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সংঘাতের মাধ্যমে নয়, আইনগত ও সামাজিকভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, কিশোর গ্যাং ও মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি যারা ভুল করেছে, তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়াও জরুরি। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগে মোহাম্মদপুর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে একটি নিরাপদ ও সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রুপায়াণ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী সামাজিক সালিশ, ‘শেষ সুযোগ’ পেল অলি গ্যাংয়ের সদস্যরা

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক, ইভটিজিং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সামাজিক সালিশের মাধ্যমে একটি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান,  সাংবাদিক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা পাড়া এলাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের হাতে সিএনজি চালক ফরহাদ হোসেনকে হামলার অভিযোগসহ এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।এ সময় অভিযুক্ত অলি গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা সদস্যদের ভালো হওয়ার জন্য শেষবারের মতো সুযোগ দেওয়া হয়। সামাজিকভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে তাদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।সামাজিক সালিশে উপস্থিত এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, এলাকায় ইভটিজিং, মাদক, মারামারি, বিশৃঙ্খলা কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।বক্তারা আরও বলেন, মাদক একটি এলাকার সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। মাদকের বিস্তারের সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধও বাড়তে থাকে। ফলে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।বৈঠকে মোহাম্মদপুর এলাকায় আইনবহির্ভূত যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ বা কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সংঘাতের মাধ্যমে নয়, আইনগত ও সামাজিকভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।স্থানীয়রা জানান, কিশোর গ্যাং ও মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি যারা ভুল করেছে, তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়াও জরুরি। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগে মোহাম্মদপুর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে একটি নিরাপদ ও সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

দৈনিক রুপায়াণ

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ মোনায়েম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১২০ ডিআইটি এভিনিউ ,আলম টাওয়ার (৮ম তলা), ঢাকা-১০০০
 ই-মেইল: dainikrupayan@gmail.com
ওয়েবসাইট: www.dainikrupayan.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রুপায়ণ