অভিযোগকারী সিএনজি চালক মো. ফরহাদ হোসেন মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। তার দাবি, একটি মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাকে ফোনে গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে সুযোগ বুঝে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ফরহাদ দেবিদ্বার উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় ছিলেন। ওই সময় মোহাম্মদপুর পূর্বপাড়ার অলি নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে তার বাবাকে গালমন্দ ও বকাঝকা করার অভিযোগ করেন। তবে ফরহাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ওই ব্যক্তির বাবাকে কোনো ধরনের গালমন্দ বা বকাঝকা করেননি।
ফরহাদের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে সুযোগমতো হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
এর পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা মার্কেট এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে গেলে অলি, সাকিবসহ কয়েকজন তার গাড়ির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করেন ফরহাদ। এ সময় তাকে মারধর ও হামলার চেষ্টা করা হয়।
ফরহাদের দাবি, একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক জড়ো হন। তাদের কয়েকজনের হাতে ছুরি, ছেনি, রামদা, কিরিচ, পাইপ, লোহার রড, রিকশার চেইন ও সুইচ গিয়ারসহ বিভিন্ন অস্ত্রসদৃশ বস্তু ছিল। তারা তাকে ঘিরে ধরে হামলার চেষ্টা চালালে তিনি দ্রুত সিএনজি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।
ফরহাদ হোসেন বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে ডেকে নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে অনেক লোক আমাকে ঘিরে ফেলে। কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছি। এখনো ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফরহাদ দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ফরহাদের চাচা মো. ফয়েজ বলেন, ফরহাদকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মোহাম্মদপুর এলাকায় কিছু কিশোর ও তরুণের বেপরোয়া চলাফেরা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিএনজি অটোরিকশাচালকদের একটি অংশও এসব ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মোহাম্মদপুর এলাকায় সাধারণ মানুষ ও সিএনজি অটোরিকশাচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন