দৈনিক রুপায়াণ

ব্যক্তিগত ছবি ফাঁসের হুমকি: মুরাদনগরে ব্ল্যাকমেইল চক্রের তৎপরতা

ব্যক্তিগত ছবি ফাঁসের হুমকি: মুরাদনগরে ব্ল্যাকমেইল চক্রের তৎপরতা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক নারীর ব্যক্তিগত ছবি কৌশলে সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আদায় এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ হোসনেয়ারা আক্তার (৩২) মুরাদনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্তদের দ্বারা পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার শিকার হন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তদের একজন ভুক্তভোগীর ছোট বোনকে প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় নিয়ে আসে। এ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কৌশলে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করা হয়।

পরবর্তীতে ওই ছবি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান এবং ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয়। মান-সম্মানের ভয়ে প্রথমে ভুক্তভোগী অভিযুক্তের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য হন। তবে এরপরও থামেনি নির্যাতন। বরং অভিযুক্ত আরও ১ লাখ ১১ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি তার ছোট বোনকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিকভাবে চরম হেয়প্রতিপন্ন অবস্থায় পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে আরিফ সরকার যিনি প্রবাসে থেকে  কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন মেয়েদের ছবি এডিট করে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে তাদের ব্যক্তিগত নাম্বার দিয়ে পোস্ট করে, এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে, ভয় ভিতি দেখিয়ে বলে আমি জেল খাটা আসামি, আইন প্রশাসন ভয় পাইনা, এভাবেই দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেলিং করে যাচ্ছে সে। 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে অবহিত করার পরও অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। এমনকি ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধেও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী মোছাঃ হোসনেয়ারা আক্তার বলেন, “আমি চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি। এলাকায় মুখ দেখাতে পারছি না। আমার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তিনি আরো বলেন, আমার ছবি এবং আমার হাজবেন্ড এর ছবি এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরিচিপূর্ণ লেখা পোস্ট করে ভাইরাল করে দেয় সে, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ, আরিফ সরকার একটি চক্রের প্রধান, যিনি দীর্ঘদিন যাবত আমাকে সহ অসংখ্য মানুষকে জিম্মি করে ব্ল্যাকমেলিং করে আসছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে জানান, আরিফ সরকার মুরাদনগরে একটি অবৈধ নেটওয়ার্ক যার কাজ হচ্ছে ব্ল্যাকমেলিং করা, সে প্রবাসে থেকে দেশের সব নেটওয়ার্কে যুক্ত সদস্যদের দিয়ে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন Ai ধারা ছবি বানিয়ে বিভিন্ন লোকদের কাছে টাকা দাবি করে। তাদেরকে অতি দ্রুত আইনে আওতায় আনা দরকার। 

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফ সরকার এর ব্যক্তিগত বিদেশি নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান পারলে তার বিরুদ্ধে নিউজ করে দিতে। 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আদায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার—এসবই গুরুতর অপরাধ, যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা বাড়ায় এ বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনা সমাজে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা দেয় এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রুপায়াণ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


ব্যক্তিগত ছবি ফাঁসের হুমকি: মুরাদনগরে ব্ল্যাকমেইল চক্রের তৎপরতা

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক নারীর ব্যক্তিগত ছবি কৌশলে সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আদায় এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ হোসনেয়ারা আক্তার (৩২) মুরাদনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্তদের দ্বারা পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার শিকার হন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তদের একজন ভুক্তভোগীর ছোট বোনকে প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় নিয়ে আসে। এ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কৌশলে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করা হয়।পরবর্তীতে ওই ছবি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান এবং ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয়। মান-সম্মানের ভয়ে প্রথমে ভুক্তভোগী অভিযুক্তের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য হন। তবে এরপরও থামেনি নির্যাতন। বরং অভিযুক্ত আরও ১ লাখ ১১ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি তার ছোট বোনকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিকভাবে চরম হেয়প্রতিপন্ন অবস্থায় পড়েছে।অভিযোগ রয়েছে আরিফ সরকার যিনি প্রবাসে থেকে  কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন মেয়েদের ছবি এডিট করে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে তাদের ব্যক্তিগত নাম্বার দিয়ে পোস্ট করে, এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে, ভয় ভিতি দেখিয়ে বলে আমি জেল খাটা আসামি, আইন প্রশাসন ভয় পাইনা, এভাবেই দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেলিং করে যাচ্ছে সে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে অবহিত করার পরও অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। এমনকি ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধেও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।ভুক্তভোগী মোছাঃ হোসনেয়ারা আক্তার বলেন, “আমি চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি। এলাকায় মুখ দেখাতে পারছি না। আমার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”তিনি আরো বলেন, আমার ছবি এবং আমার হাজবেন্ড এর ছবি এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরিচিপূর্ণ লেখা পোস্ট করে ভাইরাল করে দেয় সে, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ, আরিফ সরকার একটি চক্রের প্রধান, যিনি দীর্ঘদিন যাবত আমাকে সহ অসংখ্য মানুষকে জিম্মি করে ব্ল্যাকমেলিং করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে জানান, আরিফ সরকার মুরাদনগরে একটি অবৈধ নেটওয়ার্ক যার কাজ হচ্ছে ব্ল্যাকমেলিং করা, সে প্রবাসে থেকে দেশের সব নেটওয়ার্কে যুক্ত সদস্যদের দিয়ে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন Ai ধারা ছবি বানিয়ে বিভিন্ন লোকদের কাছে টাকা দাবি করে। তাদেরকে অতি দ্রুত আইনে আওতায় আনা দরকার। এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফ সরকার এর ব্যক্তিগত বিদেশি নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান পারলে তার বিরুদ্ধে নিউজ করে দিতে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আদায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার—এসবই গুরুতর অপরাধ, যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা বাড়ায় এ বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনা সমাজে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা দেয় এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দৈনিক রুপায়াণ

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ মোনায়েম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১২০ ডিআইটি এভিনিউ ,আলম টাওয়ার (৮ম তলা), ঢাকা-১০০০
 ই-মেইল: dainikrupayan@gmail.com
ওয়েবসাইট: www.dainikrupayan.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রুপায়ণ